বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে দিল্লিতে আ.লীগের অফিস

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা গণহত্যা মামলার রায় ঘোষণার দিন, ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে, কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ একটি বড় ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলার নীলনকশা তৈরি করেছে।

0
69
বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা

কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আগামী ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য একটি বিস্তারিত নীলনকশা তৈরি করেছে। এই দিনেই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা গণহত্যা মামলার রায় কবে হবে তা জানা যাবে। দলটির মূল লক্ষ্য হলো ব্যাপক সহিংস পরিস্থিতি তৈরি করে চলমান বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা। নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই ষড়যন্ত্রের সমন্বয় করা হচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে, যার অংশ হিসেবে নয়াদিল্লিতে একটি অফিসও ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এর আগেও গণমাধ্যমে কলকাতায় অফিস নেওয়ার খবর এসেছিল। পরিকল্পনাকারীরা বাংলাদেশবিরোধী এই তৎপরতা চালাতে সেখানে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এই নাশকতার পরিকল্পনার মূল সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভারতে পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে। তাকে কৌশলগত সহায়তা প্রদানের জন্য দায়িত্বে আছেন এসবির সাবেক প্রধান, পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মনিরুল ইসলাম এবং ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, যারা উভয়েই বর্তমানে পলাতক। এছাড়াও, এসএসএফের সাবেক ডিজি ও সাবেক কিউএমজি লে. জেনারেল (অব.) মুজিবুর রহমানসহ একাধিক সেনা কর্মকর্তা এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন।

পরিকল্পনাকারীরা ঢাকায় অস্থিরতা তৈরির মিশন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ কাজে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন পলাতক সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি লিয়াকত শিকদার, গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, এবং যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ওরফে ক্যাসিনো সম্রাট। এই মিশন সফল করতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাছাইকৃত নেতাকর্মীদের ঢাকায় আনা হচ্ছে। সূত্র আরও জানায়, পরিকল্পনাকারীরা হাসিনার প্রতি নেতাকর্মীদের আবেগকে পুঁজি করতে চায় এবং এই আবেগের জোরেই তাদের ১৩ নভেম্বর মাঠে নামানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সারা দেশ থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে পারদর্শী এবং আওয়ামী লীগের কট্টর অনুগত নেতাকর্মীদের বাছাই করে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বাছাই করা এই ক্যাডারদের রাজধানীর অন্তত পাঁচটি স্থানে নাশকতার ডিজিটাল প্রশিক্ষণ এবং যোগাযোগ কৌশলের ট্রেনিং দেওয়া হয়। এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনায় ইতোমধ্যে মেজর সাদিকুল হক সাদেককে সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করেছে। গোপালগঞ্জেও প্রশিক্ষণের অনুকূল পরিবেশের কিছু তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পেয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, দেশে অবস্থান করা কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান পুলিশ কর্মকর্তার ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদী দোসরদের ওপরও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে