জাতিসংঘে আওয়ামী লীগের দেওয়া চিঠি এবং এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্য

আওয়ামী লীগ সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের মাধ্যমে ইউএনডিপি প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বরাবর চিঠিটি পাঠায়

0
46
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বৃহস্পতিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাতিসংঘকে নির্বাচনি সহযোগিতা থেকে সরে আসার জন্য আওয়ামী লীগ যে চিঠি দিয়েছে, সেই চিঠিতে কোনো কাজ হবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি আওয়ামী লীগের এই পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্নগুলোর জবাব দেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের কাছে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে। তৌহিদ হোসেন তাঁর বক্তব্যে সংক্ষিপ্তভাবে জানান যে জাতিসংঘে পাঠানো আওয়ামী লীগের এই চিঠি কোনোভাবেই ফলপ্রসূ হবে না।

চিঠিতে আওয়ামী লীগের মূল আহ্বান ও উদ্বেগ

গত শনিবার, আওয়ামী লীগের পক্ষে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এই গুরুত্বপূর্ণ চিঠিটি ঢাকায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বরাবর পাঠান। চিঠির মূল উদ্দেশ্য হলো: অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাতিসংঘ এবং ইউএনডিপি যেন বাংলাদেশে তাদের নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত করে।

চিঠিতে আওয়ামী লীগ মূলত দুটি বিষয়ে তাদের গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে:

১. সহযোগিতা স্থগিতের আহ্বান: চিঠিতে সরাসরি বলা হয়েছে, “অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা জাতিসংঘ এবং ইউএনডিপির প্রতি নির্বাচনি সহযোগিতা স্থগিত, সব রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে জাতীয় সংলাপ ও সমঝোতাকে উৎসাহিত করার এবং যেকোনো নির্বাচনি সম্পৃক্ততার মূলভিত্তি হিসেবে মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।”

২. বর্তমান সহায়তার বিষয়ে উদ্বেগ: আওয়ামী লীগ বর্তমানে বাংলাদেশে ইউএনডিপির চলমান নির্বাচনি সহযোগিতা, ব্যালট প্রজেক্ট এবং আসন্ন নির্বাচনের বিষয়ে সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই নির্বাচনটি “অন্তর্ভুক্তিমূলকও নয়, বিশ্বাসযোগ্যও নয়।”

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি

আওয়ামী লীগ তাদের চিঠিতে আরও উল্লেখ করেছে যে ইউএনডিপির এই ধরনের নির্বাচনি সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের মূলনীতি এবং অবাধ, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রসারের ক্ষেত্রে ইউএনডিপির ম্যান্ডেট লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করে। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়ে যে সংস্থাটি এমন একটি নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে যা গণতান্ত্রিক আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের বক্তব্য এবং আওয়ামী লীগের চিঠির এই বিস্তারিত বিবরণ থেকে স্পষ্ট যে, নির্বাচন ইস্যুতে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও আওয়ামী লীগের মধ্যে স্পষ্ট মতবিরোধ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে আওয়ামী লীগের এই উদ্যোগ ফলপ্রসূ হবে না।

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে