অর্থ আত্মসাৎ ও কর ফাঁকি: জয়-পুতুলসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত দুদকের

সিআরআইয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও কর ফাঁকি: জয়-পুতুলসহ ৮ জনের নামে দুদকের মামলা

0
50
অর্থ আত্মসাৎ ও কর ফাঁকি

সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল-সহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সহকারী পরিচালক মুবাশ্বিরা আতিয়া তমা বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। বুধবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ৩ টায় রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার মূল অভিযোগসমূহ:

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা সিআরআইয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তার আশ্বাসে রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতি সাধন, অর্থ আত্মসাৎ, কর ফাঁকি এবং সন্দেহজনক লেনদেনে জড়িত।

গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক অনিয়ম:

  • কর ফাঁকি: আয়কর আইনের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সিআরআইকে আয়কর মওকুফ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত না হয়েও অবৈধভাবে কর-সুবিধা গ্রহণ করেছে।
  • অবৈধ অনুদান: অবৈধভাবে চাপ প্রয়োগ করে ২৩টি কোম্পানির কাছ থেকে ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
  • অর্থ আত্মসাৎ: ২০১৩-১৪ করবর্ষ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত সিআরআই মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫২১ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে দুদকের হিসাবে পাওয়া গেছে।
  • সন্দেহজনক লেনদেন: সিআরআইয়ের ২৫টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৪৩৯ কোটি ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৪৮০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য উদ্ঘাটন করেছে দুদক।
  • সরকারের ক্ষতি: আয়কর আইন লঙ্ঘন করে ৩৬ লাখ ৫২ হাজার ৭৪২ টাকা আয়কর প্রদান না করার মাধ্যমে সরকারকে আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে।

অন্যান্য অভিযুক্ত যারা:

দুদক জানিয়েছে, এই মামলায় জয় ও পুতুল ছাড়াও আরও যাদের আসামি করা হয়েছে, তাঁরা হলেন:

  • সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল
  • জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু
  • শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক
  • জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া
  • এনবিআর সদস্য রওশন আরা আক্তার
  • সিআরআইয়ের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শাব্বির বিন শামস

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে