জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্য গণভোট চান জামায়াত আমির

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ও গণভোট: 'জুলাই সনদের' আইনি ভিত্তি দেওয়ার দাবি জামায়াত আমিরের

0
59
জুলাই সনদ

আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, তবে এর আগে গণভোটের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদে’র আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার শর্ত দিয়েছেন তিনি। বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এই দাবি জানান।

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে বক্তব্য

জামায়াত আমির বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত। দ্রুত নির্বাচন না হলে দেশে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। আমরা সবাইকে নিয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আদায় করে ছাড়বো। তবে এর আগে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচন জামায়াতের শ্রেষ্ঠ দাবি, যা সাধারণ মানুষ সমর্থন দেবে বলে তাঁর বিশ্বাস।

জোট নয়, হবে নির্বাচনি সমঝোতা

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত কোনো জোট গঠন করবে না, তবে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তির সাথে নির্বাচনি সমঝোতা হতে পারে। এই সমঝোতার স্বার্থে জামায়াত ঘোষিত সংসদ সদস্য প্রার্থী তালিকায়ও পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

আওয়ামী লীগ নির্বাচন চায় না: জামায়াত আমির

আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, “আওয়ামী লীগই তো নির্বাচন চায় না। তারা দেড় দশক সুযোগ পেয়েও নির্বাচন না করে জোর করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিল। দেশের কোটি কোটি তরুণ ১৫ বছর ভোট দিতে পারেনি। জনগণ আওয়ামী লীগের মতো দলকে নির্বাচনে মেনে নেবে না।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, “গত দেড় দশকে দেশে কোনো নির্বাচন হয়নি। এবার হবে তাৎপর্যপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”

প্রবাসী ভোটার ও সরকারের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি

সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জামায়াত আমির জানান, ইসি কর্তৃক বেঁধে দেওয়া ৩০ অক্টোবর তারিখের মধ্যে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি। তাই ইসিকে আরও কমপক্ষে ১৫ দিন সময় বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছেন তাঁরা।

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, “প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখেন। আল্লাহর ইচ্ছায় জামায়াত ক্ষমতায় গেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংখ্যার আনুপাতিক হারে সরকারে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।”

সিলেটে উষ্ণ অভ্যর্থনা

তৃতীয়বারের মতো দলের সর্বোচ্চ পদ ‘আমিরে জামায়াত’ নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সাংগঠনিক সফরে ডা. শফিকুর রহমান বুধবার সিলেটে পৌঁছান। ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছার পর সিলেট জামায়াতের পক্ষ থেকে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় কয়েক সহস্রাধিক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় তাঁকে নগরীতে নিয়ে আসা হয় এবং রাস্তার দু’পাশে শত শত মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান।

আমিরে জামায়াত বুধবার বিকাল থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত সিলেট জেলার সবকটি আসনের নেতাকর্মীদের সাথে পৃথক মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন। তাঁর বিদেশ সফর শেষে দেশে ফেরার পর এটি দু’দিনের সাংগঠনিক সফর।

(মতবিনিময়কালে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন: কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।)

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে